ইউটিউব চ্যানেলকে হ্যাকিং থেকে বাচানোর উপায়

ইদানিং ইউটিউব একাউন্ট হ্যাক হওয়ার অনেক পোস্ট চোখে পড়ছে। চলুন দেখে নেই হ্যাক হওয়ার হাত থেকে কিভাবে আপনার একাউন্টকে রক্ষা করবেন এবং একাউন্ট একবার হ্যাক হয়ে গেলে সেই একাউন্ট যেন আপনি ফেরত আনতে পারেন তার উপায় নিয়ে:


আন অথোরাইজ ইমেইলে ইনফরমেশন না দেয়াঃ হ্যাকাররা বর্তমানে ইউটিউবের চ্যানেলের দিকে নজর দিচ্ছে তাই তারা কাস্টম এস এম টি পি সার্ভার থেকে ইমেইল এড্রেস মাস্ক করে ইউটিউবের মত ইমেইল সেন্ড করে চ্যানেলের ইনফরমেশন চায়। ভুলেও এই সব ইমেইলের রিপ্লাই দেবেন না। কারণ গুগলের কাছে আপানার একাউন্টের সব তথ্য আছে এবং গুগল আপনার কাছে কখনই আপানার একাউন্টের ইনফরমেশন চাইবে না। মাস্ক করা ইমেইল গুলো বেশিরভাগ সময় স্প্যাম ফোল্ডারে জমা হয় তাই স্প্যাম ফোল্ডারের ইমেইলগুলো ওপেন না করাই ভালো। স্প্যাম বা প্রমোশন ইমেইল থেকে বিরত থাকার জন্য জিমেইলের ফিল্টার অপশন ব্যাবহার করতে পারেন।

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন: একাউন্ট নিরাপদ করার জন্য ভালো একটি উপায় হচ্ছে আপনার একাউন্টের টু স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যবহার করা, এর ফলে আপনার একাউন্টে লগইন করার আগে আপনার ফোন নাম্বারে একটি কোড আসবে সেই কোড না দিলে কেউ যদি আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনেও থাকে তবুও সে আপনার একাউন্টে লগইন করতে পারবেন না। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করার সময় অবশ্যই আপানার নিজের ফোন নাম্বার ব্যবহার করবেন।

বিজনেস ইমেইল এ্যাডরেস পরিবর্তনঃ ইউটিউব চ্যানেলের এবাউট সেকশনে ক্লিক করলে দেখতে পাবেন "ফর বিজনেস ইনকোয়ারি" নামে একটি অপশন আছে সেখানে ইমেইল এড্রেস শো করে। এই অপশনটি যদি ব্যবহার করতেই হয় তবে সেখানে আপানার একাউন্টের যে ইমেইল আইডি আছে সেই আইডি না দেয়া ভালো, অন্য কোন ইমেইল আইডি সেখানে দিবেন।

থার্ড পার্টি এপস রিমুভঃ অনেক সময় বিভিন্ন থার্ড পার্টি এপ্স বা সাইট কানেক্ট করার জন্য জিমেইল আইডি প্রয়োজন হয়।থার্ড পার্টি এপ্স বা সাইটে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যে ইমেইল আইডি আছে সেটা কখনই ব্যবহার করবেন না। আর যদি ব্যাবহার করে থাকেন তবে সেগুলো রিমুভ করে থার্ড পার্টি এপ্স পারমিশন ডিজেবল করে দিন।

পপ এবং আইম্যাপ বন্ধ করাঃ আপনার জিমেইলের সেটিংস অপশনে গেলে দেখতে পাবেন পপ এবং আইম্যাপ নামের দুটি অপশন আছে সেই অপশন গুলি এনাবল করা থাকলে সেগুলো ডিজেবল করে দিন। সুধুমাত্র SMTP, IMAP এই পোর্ট ব্যবহার করেও একাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব। তাই আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ইমেইল আইডির পপ এবং আইম্যাপ সবসময় ডিজেবল করে রাখুন।

রিকভারী ইমেইল ও ফোন নাম্বার আপনার একাউন্ট রিকভার করার জন্য আপনার উচিত হবে একটি রিকভারী ইমেইল এবং ফোন নাম্বার যোগ করা। কারণ এই রিকভারী ইমেইল ও ফোন নাম্বার দিয়ে আপনি আপনার একাউন্ট রিকভার করতে পারবেন।

সিকিউরিটি কোশ্চেনঃ আপনার একাউন্টকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং রিকভার করার জন্য আপনার উচিত হবে আপনার ইমেইলের একটিসিকিউরিটি কোশ্চেন সেট করে রাখা।

অপ্রয়োজনীয়_বা আনথোরাইজ এডঅনস বা এক্সটেনশন রিমুভঃ গুগল ক্রোম বা ফায়ারফক্সে অনেক সময় আমরা বিভিন্ন এডঅনস বা এক্সটেনশন ব্যবহার করি। এই এডঅনস বা এক্সটেনশন ব্যবহার করেও কিন্তু ইমেইল আইডি হ্যাক করা যায়। তাই আনথোরাইজ এডঅনস বা এক্সটেনশন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার ও পাসওয়ার্ড রেগুলার পরিবর্তন করাঃ আপনার একাউন্টকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনার উচিত নিয়মমাফিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং আপনার পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার না করা। সবসময় স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন যেমন ক্যাপিটাল, স্মল, আলফা নিউমেরিক ওয়ার্ড, সিম্বল বা সাইন এগুলোর কম্বিনেশনে পাসওয়ার্ড বানানোর চেস্টা করবেন। কারণ কালি লিনাক্স ব্যাবহার করে ব্রুটফোরস দিয়ে পাসওয়ার্ড ব্রেক করা যায়। তাই সবসময়স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করবেন। পাশাপাশি যদি কখনো গুগল আপনাকে সাস্পিশিয়াস একটিভিটির ইনফরমেশন দেয় তাহলেওপাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলবেন।

রিকভারী ইনফরমেশনঃ একাউন্ট রিকভারী করার জন্য কিছু ইনফরমেশন যেমন আপনার ডেট অফ বার্থ, একাউন্ট ক্রিয়েটিং ইনফরমেশন, ফোন নাম্বার, রিকভারী ইমেইল,সিকিউরিটি কোশ্চেন ইত্যাদি যাবতীয় ইনফরমেশন গোপন রাখবেন।

স্পাইওয়্যার ম্যালওয়্যার থেকে বিরত থাকাঃ অনেক সময় আমরা বিভিন্ন সফটওয়্যার ইন্সটল করি কিন্তু অনেক সফটওয়্যারে বিভিন্নস্পাইওয়্যার ম্যালওয়্যার থাকে যার ফলে আপনার কম্পিউটারটি হ্যাকারদের দখলে চলে যায়। তাই আন অথোরাইজ কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকবেন। সবচেয়ে ভালো হয় ভালো কোন পেইড এন্টিভাইরাস ব্যাবহার করলে।

ফিশিংঃ আপনার ইমেইলে আসা কোন লিংক ক্লিক করা থেকে বিরত থাকবেন, কারণ হ্যাকাররা ইমেইলে লিংক এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারে ফিশিং স্ক্রিপ্ট ইন্সটল করে দিতে পারে। এইসব ফিশিং স্ক্রিপ্ট দিয়ে হ্যাকাররা আপনার কিবোর্ডের প্রত্যেকটি কি প্রেস সম্পর্কে জানতে পারে। ফিশিং স্ক্রিপ্টের অনেক ওয়েবসাইট আছে তাই যেকোন ওয়েবসাইটে আপনার ইউটিউবের ইমেইল আইডি দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়াও বিভিন্ন বাগ থাকে যার মাধ্যমে হ্যাকাররা আপনার পাসওয়ার্ড জেনে নিতে পারে। সোশাল মিডিয়া একাউন্টে আসা বিভিন্ন লিংক ক্লিক থেকেও বিরত থাকবেন কারণ হ্যাকাররা আজকাল সোশাল মিডিয়া একাউন্টের মাধ্যমে ফিশিং স্ক্রিপ্ট সেন্ড করে।

মনে রাখবেন আপনার অসচেতনতার জন্যই কিন্তু আপনার একাউন্ট হ্যাক হয় তাই আপনার একাউন্ট সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বও আপনার।








Post a Comment

0 Comments