ইউটিউবে আয় দিগুন করার উপায় !



ইউটিউবে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা এক লাখ ভিউ থেকে ৫০০০ টাকা আয় করেন, আবার অনেকে আছেন এক লাখ ভিউ থেকে এক হাজার টাকা আয় করতেও কষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু অনেকেই আছেন যারা মাত্র দশ হাজার ভিউ থেকে দশ হাজার টাকার ও বেশী  আয় করেন। ইউটিউবে আয় হয় মূলত বিজ্ঞাপন থেকে, ভিউ থেকে কোন আয় হয় না। আপনি যদি আপনার আয় বাড়াতে চান তবে আপনাকে জানতে হবে কি কি করলে আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে, চলুন জেনে নেই সেই পদ্ধতি গুলো। 



নিশ বাছাইঃ আপনাকে সর্বপ্রথম যে কাজটা করতে হবে সেটা হচ্ছে নিশ বাছাই, কারণ সব নিশ থেকে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা যায় না। কিছু হাই পেয়িং নিশ আছে যেগুলোর সিপিসি অনেক বেশী যেমন লোন, ইনস্যুরেন্স, রিহ্যাব, লইয়ার,মর্টগেজ, এটর্নি, রি-ফিনান্স, ডোনেট, ক্রেডিট ইত্যাদি এই সব নিশের সিপিসি অনেক বেশী। তাই এইসব নিশ নিয়ে কাজ করলে অনেক অনেক বেশী আয় করা যায়, যেমন অটো ইনস্যুরেন্স নিশ নিয়ে কাজ করলে একটি এড ক্লিক থেকে ৪৫ ডলার থেকে ১২১ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। বিশ্বাস হচ্ছে না? গুগল এডওয়ার্ড চেক করে দেখতে পারেন। তবে আমি শুরুতেই হাই সিপিসির নিশ নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিতে চাই না। শুরুতে এমন কোন নিশ খুঁজে বের করুন যা নিয়ে ইউটিউবে কম সংখ্যক ভিডিও আছে কিন্তু এই নিশে অনেক অডিয়েন্স রয়েছে। 

কন্টেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজঃ গ্রুপে অনেকেই বলেন বাংলা কন্টেন্টের আয় খুব কম, এটা সত্যি যে বাংলা ভাষায় যে কন্টেন্ট বানানো হয় সেই ভিডিও থেকে তুলনামূলক কম আয় হয়। আপনি যদি ইউটিউব থেকে আপনার আয় বাড়াতে চান তবে আপনার উচিত হবে ইংলিশ ভাষায় কন্টেন্ট বানানো কারণ ইংলিশ ভাষায় কন্টেন্ট বানালে আপনি গ্লোবাল অডিয়েন্স পাবেন, কিছু কন্টেন্ট আছে যা ভাষা ছাড়াই বানানো যায় কিন্তু ইংলিশ ভাষায় বানানো কন্টেন্ট সবসময় গ্লোবাল অডিয়েন্স আনতে সাহায্য করে আর গ্লোবাল অডিয়েন্স সবসময় আপনাকে বেশী আয় করতে সাহায্য করবে। একবার ভেবে দেখুন যে ৭৫০ কোটির ও বেশী মানুষ ইংলিশ ভাষা বোঝে। সেখানে বাংলা ভাষা বোঝে ৫০ কোটি মানুষ। 

অডিয়েন্স কান্ট্রিঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছেঅডিয়েন্স কান্ট্রি অর্থাৎ আপনার ভিডিওর ভিউয়ার কোন দেশ থেকে আসবে। সব দেশের ভিউয়ার থেকে আপনি কিন্তু আপনার আয় বাড়াতে পারবেন না,আপনার ভিডিও যদি বাংলাদেশের কোন ভিউয়ার দেখে আপনার ভিডিওর কোন বিজ্ঞাপন ক্লিক করে তবে আপনার অ্যাডসেন্সে কিছু সেন্ট জমা হবে,আবার সেই ভিডিওটি যদি আমেরিকার একজন ভিজিটর দেখে বিজ্ঞাপন ক্লিক করে তবে আপনারঅ্যাডসেন্সে কয়েক ডলার জমা হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে অডিয়েন্স কান্ট্রি কতবড় ভুমিকা রাখে। কিছু দেশের নাম বলছি তাদের ক্লিকের সিপিসি অনেক বেশী। আমেরিকা,কানাডা, জার্মানি, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, সুইডেন,নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জাপান, স্পেন ইত্যাদি। এই সব দেশের ভিজিটর আপনি যদি আপনার ভিডিওতে আনতে পারেন তবে আপনার আরনিং গ্রাফ জাম্প করবে। এখন কথা হচ্ছে এই সব দেশ থেকে ভিজিটর কিভাবে আপনার ভিডিওতে আনবেন? এর জন্য আপনাকে এস করতে হবে এবং এক্সটারনাল ভিজিটরের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে। স্পেসিফিক কিওয়ার্ড এস এবং টার্গেটেড ব্যাকলিংক দিয়ে আপনার বর্তমান ভিডিওতেও টপ কান্ট্রি ভিজিটর আনতে পারবেন।স্পেসিফিক কিওয়ার্ড এস এবং টার্গেটেড ব্যাকলিংক নিয়ে লিখতে গেলে সিরিজ আকারে লিখতে হবে কারণ এই প্রসেসটা অনেক বড়। তবে শীঘ্রই স্পেসিফিক কিওয়ার্ড এস এবং টার্গেটেড ব্যাকলিংক নিয়ে দুটি আর্টিকেল লিখবো।

আপনি এবার নিশ্চই বুঝতে পারছেন তিনটি বিষয়ের কম্বিনেশনে আপনার ইউটিউবের আয় অনেক অনেক বেড়ে যেতে পারে, একটি হাই পেয়িং নিশ,ইংলিশ ভাষায় কন্টেন্ট এবং টপ কান্ট্রি ভিজিটর এই তিনটির সমন্বয়ে আপনার আয় দিগুন করতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments